আজ ১০ জুন আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ও আহত শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।
দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরতে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে প্রকাশ করা হচ্ছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচারিত হচ্ছে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের অবদান উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের এক হাজার ৯২৮ জন নারী সদস্যসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বের ২৫টি দেশে ২৭টি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের আটজন নারী সদস্যসহ ৩৭ জন কর্মকর্তা ইউএনপোল ও অন্যান্য জাতিসংঘ মিশনে কর্মরত রয়েছেন। ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যরা নিয়মিতভাবে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছেন, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ পুলিশের ২৫ জন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করে তারা স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে হাইতির ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সহায়তা প্রদানসহ আফ্রিকা ও ইউরোপের সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা।
এদিকে, শিগগিরই হাইতিতে বাংলাদেশ পুলিশের ৫২৫ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
প্রায় চার দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে বাংলাদেশ পুলিশ। জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হলেও এ বছর সরকারি ছুটির কারণে বাংলাদেশে দিবসটি ১০ জুন পালন করা হচ্ছে।
Tinggalkan komentar
Alamat email Anda tidak akan dipublikasikan. Kolom yang wajib diisi ditandai *