যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ইরানে রাতভর দফায় দফায় মার্কিন হামলা এবং কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় দরপতন হয়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে।
সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর একাধিক দফায় হামলা চালানোর পর এশিয়ার শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়ে গেছে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের ক্রমেই উদ্বিগ্ন করে তুলছে। এমনকি কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান নিয়ে আশাও ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার পর জাপানের নিক্কেই সূচক ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ২ শতাংশ পড়ে গেছে।
এছাড়া লেনদেনের শুরুতে তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৯৭ ডলারে উঠেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে সাত সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত আরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার তথ্য প্রকাশের পর তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৩ সেন্ট বা ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৬৮ সেন্ট বা ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্যাক্সোর প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ চারু চানানা বলেন, ‘ইরানে নতুন হামলার খবরের পরও তেলের দাম ৯০ ডলারের আশপাশে রয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, বাজার এখনও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাকে পুরোপুরি মূল্যায়ন করছে না। তবে জ্বালানি অবকাঠামো, নৌপরিবহন পথ বা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আরও বাড়লে জ্বালানির দামে বড় ধরনের পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে।’
এদিকে বুধবার প্রকাশিত হতে যাওয়া মূল্যস্ফীতির তথ্যের দিকেও নজর রাখছেন মার্কিন বিনিয়োগকারীরা। মে মাস পর্যন্ত গত ১২ মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র তুলে ধরা হবে ওই প্রতিবেদনে। যুদ্ধের প্রভাব কতটা পড়েছে, সেটিও সেখানে প্রতিফলিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের জরিপে অংশ নেয়া অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই সময়ে মূল্যস্ফীতির হার সম্ভবত ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে।
Tinggalkan komentar
Alamat email Anda tidak akan dipublikasikan. Kolom yang wajib diisi ditandai *